দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে আইনি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে তার প্রশাসন।
শনিবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর দ্য ইন্টারভিউ পডকাস্টে মামদানি বলেন, "আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জায়গা হেগে।" তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখে থাকা নেতানিয়াহু একজন "যুদ্ধাপরাধী" এবং গাজায় তার কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকেই একই মত পোষণ করেন।
তবে নিউইয়র্ক পুলিশের (এনওয়াইপিডি) মাধ্যমে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক করার আইনি ক্ষমতা তার রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন মামদানি। তিনি জানান, এ বিষয়ে সিটি ল ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চলছে।
মামদানি বলেন, "আইন আমাকে যতটুকু ক্ষমতা দেয়, আমরা ঠিক ততটুকুই করব। তবে এ জন্য আমরা নতুন কোনো আইন তৈরি করব না।"
২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিসি নেতানিয়াহুসহ কয়েকজন ইসরায়েলি নেতার বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে অনাহারকে ব্যবহার, হত্যা, নিপীড়ন ও অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ড।
মেয়র নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও মামদানি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে "গণহত্যা" বলে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেবেন। একই সঙ্গে তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলাকেও "ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ" হিসেবে নিন্দা জানান।
তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয় এবং আদালতের এখতিয়ারও স্বীকৃতি দেয় না। ফলে নিউইয়র্কের মেয়রের পক্ষে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা কার্যত সম্ভব নয় এবং এমন উদ্যোগ নিলে তা ফেডারেল সরকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আইসিসির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তার প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ওপর আইসিসির কোনো এখতিয়ার নেই। পরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও আইসিসিকে "আন্তর্জাতিক আইনের অপব্যবহার" করার অভিযোগ তুলে আদালটিকে দুর্বল করার অঙ্গীকার করেন।
সম্প্রতি এক রেডিও সাক্ষাৎকারে মামদানির বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, এ ধরনের হুমকি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মামদানি হামাসকে সমর্থন করেন। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র।
এদিকে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এসে বক্তব্য দেবেন এবং ইসরায়েলের অবস্থান বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবেন।
পডকাস্টে মামদানি বলেন, "এটি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে ব্যক্তিগত মতামতের বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে আমি আইনের মধ্যেই থেকে কাজ করব।"
মামদানির এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন গাজা ইস্যুতে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরেও ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় অর্ধেক ডেমোক্র্যাট ইসরায়েলের জন্য ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বাতিলের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, যদিও সেটি পাস হয়নি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান